কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে আজ একজনের ওপর সব আলো ঠিকরে পড়বে। তিনি রাহুল দ্রাবিড়। ক্রিকেট দুনিয়ায় যার পরিচয় ‘দ্য ওয়াল’। তা কতটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে দ্রাবিড়ের ওয়ানডে অবসর নেওয়া? এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, শেষ হওয়া চারটি ওয়ানডেতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি টেস্ট সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৪৬১ রান করা দ্রাবিড়। ওয়ানডে সিরিজের চার ম্যাচে করতে পেরেছেন ৫৫। আজ তিনি নিশ্চয় চাইবেন বড় একটা ইনিংস খেলে ভারতের জয়ে অবদান রাখতে। সেটা হলে ইংল্যান্ড থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল যে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফিরতে পারবে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দৈন্যতা, একের পর এক পরাজয় এবং ক্রিকেটারদের চোট ভারতীয় বোর্ডকে বাধ্য করে দ্রাবিড়কে ফেরাতে। ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলে ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। এরপর বদলে যাওয়া ভারতের ওয়ানডে দলে ঠাঁই হয়নি দ্রাবিড়ের। সরকারিভাবে অবসর না নিলেও তিনি ওয়ানডের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজের দলে নিজের নাম দেখে দ্রাবিড়ও বিস্মিত হয়েছেন! মূলত বিপদে পড়ে এতদিন পর তাকে স্মরণ করেছেন ভারতের ক্রিকেট কর্তাব্যক্তিরা। নিজের ক্ষোভ থেকেই কি-না এক সাক্ষাৎকারে দাবিড় জানিয়ে দেন, জানলে তিনি থাকতেন না ওয়ানডে দলে। দ্রাবিড় তো ঠিকই বলেছেন। আজ না হয় ইংল্যান্ডে তাকে দরকার পড়েছে; কিন্তু ভারতের মাটিতে যে তাকে আবার ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে না তার নিশ্চয়তা কী? এটা বুঝে ফেলেছিলেন দ্রাবিড়ও। তাই দেরি না করে তিনিও জানিয়ে দেন, ইংল্যান্ডে তার এই ফেরা যাওয়ার জন্য। এরপর আর রঙিন পোশাকে দেখা যাবে না ওয়ানডেতে সপ্তম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮২০ রান করা দ্রাবিড়কে। গড় ৩৯.০৬। ১২ সেঞ্চুরির পাশে ৮২টি হাফ সেঞ্চুরি। এখন দেখার, আজ বিদায়লগ্নটা কেমন হয় দ্রাবিড়ের। সিনিয়র কোনো ক্রিকেটার বিদায় নিলে ধোনির জমানায় একটা রীতি চোখে পড়ে। ২০০৮ সালে নাগপুরে সৌরভ গাঙ্গুলি অবসর নেওয়ার সময় কিছুক্ষণ অধিনায়কত্ব তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন ধোনি। অনীল কুম্বলের অবসরের সময় তাকে কাঁধে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। দ্রাবিড়ের ক্ষেত্রে কী হবে? ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় টি২০ বিশ্বকাপে দ্রাবিড় যেতে রাজি না হওয়ায় অধিনায়ক হয়েছিলেন ধোনি। সবার আশা আজ দ্রাবিড়কে প্রাপ্য সম্মান জানিয়েই ‘দ্য ওয়াল’কে বিদায় জানাবেন ভারত অধিনায়ক।
No Comments