গানটা তাহলে এখনও পুরনো হয়নি। সাউন্ডবক্সে বিশ্বকাপের মার ঘুড়িয়ে … চললে এখনও দোলা দেয় গ্যালারিকে। এখনও ব্যাটসম্যানদের নাড়া দেয় মাঠে। গতকাল বিসিবি কাপে মিরপুরে সেই মার ঘুড়িয়ে … বদলে দিল যেন গোটা পরিবেশকে। রান নেই, রান নেই করে কপাল খুটতে থাকা জাতীয় দলের টপ ফোর ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে চারটি হাফ সেঞ্চুরি এলো, ‘এ’ দলের সংগ্রামী ব্যাটসম্যান নাইম ইসলামের কাছ থেকে সেঞ্চুরি এলো, বোলার রুবেলের তিনটি উইকেট শিকার দেখা গেল। সব মিলিয়ে এদিন অনেক কিছুই ফিরে দেখল মিরপুরে, আর সব কিছুই প্রথম দেখল কোচ স্টুয়ার্ট ল। হোক না প্রতিপক্ষ মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের ‘এ’ দল, তাদের বিপক্ষে জাতীয় দলের ৯ উইকেটে ৩১১ রান তোলাটা কোচ স্টুয়ার্ট ল’র কাছে প্রথম দর্শনই ছিল। এর আগে একাডেমীর বিপক্ষে ৭৫ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে জয় পাওয়া জাতীয় দলের কোচকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এদিন ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৬ রানে জয় পাওয়া অবশ্যই তাকে স্বস্তি দিয়েছে।
কোচের দেখা বাংলাদেশের রূপে জাতীয় দলের অনেকেই নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। তামিম ৬৫, শাহারিয়ার নাফীস ৫০ ও মুশফিকুর রহিম ৬৩ রান করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। আর আগের ম্যাচে একাদশে না থাকা আশরাফুল এদিন ৭২ বলে ৮৩ রান করে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। ‘গত কয়েকদিন নেটে বেশ ভালো করছিলাম। বিশ্বাস ছিল ম্যাচেও তার প্রভাব পড়বে। এদিন মনে হয় তা করতে পেরেছি। তবে কোচ বলেছেন আমাকে ধারাবাহিক হতে হবে। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারব।’ ম্যাচ শেষে সাংবাদিকরা যখন জয়ী দলের সর্বোচ্চ স্কোরার আশরাফুলকে ঘিরে ধরেছেন, তখন তার পাশেই ‘এ’ দলের ১০১ রানে অপরাজিত থাকা নাইম ইসলাম আফসোস করছেন আকাশের দিকে তাকিয়ে। কেননা, এদিন বৃষ্টি আইনে ম্যাচটি ৩৬ রানে হেরে যায় নাইমদের দল। স্কোর বোর্ডে ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ৫১ রান রেখে যায় ‘এ’ দল, বৃষ্টি শেষে এসে দেখে তাদের ২৬ ওভারে ২২০ রান করতে হবে। ‘ম্যাচটি পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলা হলে ভালো হতো। হয়তো আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারত।’
ম্যাচসেরা নাইম যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলছেন তা কিন্তু উপভোগ করেছেন মিরপুরে আসা দর্শকরা। সারাদিনে তারা ৫৪৫ রানের দুটি ইনিংস দেখেছেন। দু’দলের কাছ থেকেই ৪৭ বাউন্ডারি আর ১০টি ছক্কা দেখেছেন। শাহাদাত, রুবেল, রাজ্জাকদের উইকেট শিকার করতে দেখেছেন আর দেখেছেন নিজেদের মধ্যে এমন ম্যাচেও জানদার কিছু ফিল্ডিং। নির্বাচক আর কোচের সামনে নিজেকে তুলে ধরার এক অদম্য ইচ্ছা ছিল প্রত্যেকের মধ্যে। সকালে যা তামিম আর শাহারিয়ার নাফীসের ওপেনিং জুটি থেকেই লক্ষ্য করে সবাই। ইমরুলকে বিশ্রামে রেখেই এদিন নাফীসকে নিয়ে তামিম ১১৮ রানের জুটি গড়েছিলেন। কম যাননি অধিনায়ক মুশফিকও, ৬১ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪ বাউন্ডারি ছাড়াও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে যান। সেসঙ্গে আইসিসি নতুন নিয়মের সঙ্গেও ধাতস্থ হয়ে নেন। চলি্লশ ওভারের আগেই ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নিতে হবে_ এই নিয়ম মেনে এদিন ৩৬ ওভার থেকে পাওয়ার প্লে নিয়ে নেয় জাতীয় দল। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ রান আদায় করে জাতীয় দল। ২৭৯ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অলক কাপালি এলেও চালিয়ে খেলতে গিয়ে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
কোচের সামনে ব্যাটিং পরীক্ষায় জাতীয় দলের চার ব্যাটসম্যান উতরে গেলেও ‘এ’ দলের রকিবুল ব্যর্থ হয়েছেন ০ রানে আউট হয়ে। জুনায়েদ ৫৮ বলে ৪৫ রান করে কিছুটা স্বস্তি দিলেও নাইমের সেঞ্চুরির পথ যথেষ্ট পরিণত হওয়ার পরিচয় দিয়েছেন। কোনো ধরনের জীবন না নিয়েই চার নম্বরে নেমে নাইম শেষ পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়ে যান, যা তাকে জাতীয় দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে যথেষ্ট অক্সিজেন দেবে।
ok